আপনার স্বপ্নের ফ্লাট কেনার কথা ভাবছেন? আপনি কি জানেন বাড়ী তৈরী বা ফ্লাট কেনার জন্য গৃহ ঋণ নিলে ২.৬৭ লাখ টাকা থেকে ২.৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদের ছাড় পাবেন?

আমাদের প্রত্যেকের থাকার জন্য একটা ঘর/বাড়ী বা ফ্লাট দরকার। কিন্তু এটা কেনা যেন স্বপ্নের ব্যাপার। বর্তমানে যে বাড়িগুলি বিক্রির জন্য পাওয়া যায় তা খুব দামী এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভারতের নিম্ন মধ্যবিত্ত লোকের নাগালের বাইরে। বর্তমানে ভারতে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির খুব অভাব রয়েছে। এই সমস্যা মেটাবার জন্য ভারত সরকার একটা প্রকল্প এনেছে যার উদ্দেশ্য সকলের জন্য বাসস্থান। এই প্রকল্পে ব্যক্তি আয় অনুযায়ী ঋণ নিয়ে বাড়ী করতে পারবে। এই প্রকল্পে ব্যক্তি ৬ লাখ টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে এবং ঋণের সুদের ওপর ব্যক্তি ভর্তুকি পাবে যার পরিমাণ ২,৬৭,০০০ টাকা থেকে ২,৩০,১৫৬ টাকা পর্যন্ত। তার মানে এই প্রকল্পে আপনি বাড়ী তৈরী বা ফ্লাট কেনার জন্য যদি ৬ লাখ টাকা ঋণ নেন তাহলে সরকার সুদ বাবদ ভর্তুকি দেবে ২,৬৭,০০০ টাকা এবং আপনার নিট ঋণের পরিমাণ কমে গিয়ে দাঁড়াবে ৩,৩৩,০০০ টাকা। এখানে আপনার ইএমআইও কমে যাবে। এই রকমই আপনি বাড়ী তৈরী বা ফ্লাট কেনার জন্য যদি ৯ লাখ টাকা ঋণ নেন তাহলে সরকার সুদ বাবদ ভর্তুকি দেবে ২,৩৫,০০০ টাকা এবং আপনার নিট ঋণের পরিমাণ কমে গিয়ে দাঁড়াবে ৬,৬৫,০০০ টাকা। যদি ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তাহলে সরকার সুদ বাবদ ভর্তুকি দেবে ২,৩০,১৫৬ টাকা এবং আপনার নিট ঋণের পরিমাণ কমে গিয়ে দাঁড়াবে ৯,৬৯,৮৪৪ টাকা।

এখন জেনে নিন এই প্রকল্পটি কি এবং আপনি কি ভাবে এই ঋণের ওপর সুদের ভর্তুকি পাবেন।

গ্রামে ও শহরে দরিদ্র জনসাধারণের জন্য ভারতে মোট ২ কোটি বাড়ি বা ফ্লাটের প্রয়োজন । এই জনসাধারণের বাড়ির মালিকানা দেওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার জন্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস  প্রকল্প চালু করেছে, যা ভারতের বাড়ির নির্মাণ ও ক্রয় ক্ষমতা কে সহজ করতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের ক্রেডিট লিংকড সাবসিডি স্কিম (CLSS) এর মাধ্যমে সরকার বাড়ি ক্রয় বা নির্মাণের জন্য  ঋণের ওপর সুদের ভর্তুকি দিচ্ছে। একটা বাড়ি বা ফ্লাট কেনার জন্য সুদের ভর্তুকি কি এখন তা আমরা আলোচনা করবো।

সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি বা ফ্লাট কেনার জন্য এই প্রকল্পের অধীনে ঋণের ওপর সুদে ভর্তুকি হিসাবে দেওয়া হয়। এই ভর্তুকি সুদের টাকা আপনার লোন অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে যার ফলে আপনার কার্যকর প্রতি মাসের হোম লোন ইএমআই (EMI) কমে যাবে।

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বিভাগের গ্রুপ(EWS) এবং লো-ইনকাম গ্রুপ (LIG)এর অধীনে যারা পড়েন তারা ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে হোম লোন চাইলে ঋণের ওপর ৬.৫% পর্যন্ত সুদের ভর্তুকি পাবে।

যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকা তারা ইডব্লিউএস বিভাগে পড়বে। যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকা থেকে  ৬ লক্ষ টাকা তারা এলআইজি ক্যাটাগরিতে পড়বে। এই দুটি বিভাগে ক্রেডিট লিঙ্কড সাবসিডি স্কিম এর অধীনে আবেদনকারীরা ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হোম লোন পাবে। ৬ লক্ষ টাকার বেশী লোন নিলে অতিরিক্ত লোনের পরিমানের ওপর সুদের ভর্তুকি পাওয়া যাবে না।

এক্ষেত্রে বাড়ির কার্পেট ইডব্লিউএস বিভাগের জন্য ৩০ বর্গ মিটার এবং এলআইজি বিভাগের জন্য ৬০ বর্গ মিটার হতে হবে। লোন আবেদনকারী ৩০ বা ৬০ বর্গ মিটারের বেশী কার্পেট এরিয়া নিয়ে বাড়ি কিনতে বা বানাতে পারবে কিন্তু সুদের ভর্তুকি ঋণের ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

এমআইজি(MIG) -১ এর জন্য, ফ্ল্যাটের কার্পেট এলাকা ১৬০ বর্গ মিটারের চেয়ে কম এবং এমআইজি (MIG)২ এর জন্য ফ্ল্যাটের কার্পেট এলাকা ২০০ বর্গ মিটারের চেয়ে কম থাকতে হবে।

এমআইজি ফ্ল্যাটের জন্য সুদ ভর্তুকি নিম্নলিখিত ঋণগ্রহীতাদের দেওয়া হয়: -

এমআইজি ১ - যাদের বার্ষিক  আয় ৬ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা। এই বিভাগে ঋণের ৯ লক্ষ টাকার ওপর ৪% সুদের ভর্তুকি দেওয়া হবে।

এমআইজি ২ - যাদের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা থেকে ১৮ লক্ষ টাকা। এই বিভাগে ঋণের ১২ লক্ষ টাকার ওপর ৩% সুদের ভর্তুকি প্রদান করা হবে।

নির্দিষ্ট টাকার বেশী ঋণ নিলে অতিরিক্ত ঋণের পরিমানের ওপর সুদের ভর্তুকি পাওয়া যাবে না।

এই প্রকল্পে সুদের ভর্তুকি পেতে গেলে আপনাকে কি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে তা নিচে দেওয়া হল।

১) আপনাকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থায় সব ডকুমেন্টস নিয়ে গৃহ ঋণের  জন্য আবেদন করতে হবে।

২) ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সংস্থা আপনার গৃহ ঋণের ডকুমেন্টস পরীক্ষা করে দেখবে যে আপনি গৃহ ঋণের সব সর্তগুলি মেনেছেন কিনা। তারা যদি দেখে যে সব সর্ত মেনেছেন  এবং আপনার ঋণ নেবার যোগ্যতা আছে তবেই তারা ঋণ মঞ্জুর করবে।

৩) আপনাকে ঋণ প্রদান করার পর ব্যাংক  কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থার কাছে আপনার হয়ে সুদের সাবসিডি দাবি করবে। বর্তমানে, ন্যাশনাল হাউজিং বোর্ড (NHB) এবং হাউজিং এন্ড আরবান ডেভোলপমেন্ট কর্পোরেশন (HUDCO) সরকারের হয়ে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসাবে কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা  ঋণের ডকুমেন্টস পরীক্ষা করে দেখবে এই প্রকল্পের সব শর্ত মানা হয়েছে কিনা। ডকুমেন্টস দেখে সন্তুষ্ট হলে তারা গৃহ ঋণের সুদের সাবসিডির টাকা প্রদান করবে এবং সেই টাকা গৃহ ঋণ বাবদ খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবে।

৫) ব্যাংক কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থার কাছ থেকে সুদের সাবসিডির টাকা পেয়ে ব্যাংক আপনার মোট ঋণের থেকে বাদ দিয়ে গৃহ ঋণের পরিমান কমিয়ে দেবে।

৬) ঋণের পরিমাণ কমে গেলে আপনার প্রতি মাসের ইএমআই  অনুপাতিকভাবে কমে যাবে।

এই প্রকল্পের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক শর্তাবলী কি কি-

১) ইডব্লিউএস / এলআইজি ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত আয়ের প্রমাণ হিসাবে স্ব-শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট/ শপথপত্র বা এফিডেভিট জমা দিতে হবে।

২) আপনি  যদি এই স্কিমে ঋণ নেবার পর আপনার বকেয়া ঋণ ব্যালেন্স ট্রান্সফার হিসাবে  অন্য কোন ব্যাংকে নিয়ে যান তাহলে আপনি অন্য ব্যাংকে আবার সুদ সাবসিডির দাবি করতে পারবেন না।

৩) এই প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্দেশ্য সবার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। অতএব, যাদের বা যে পরিবারের ইতিমধ্যে একটি ঘর/ ফ্লাট/ বাড়ীর মালিকানা আছে তারা এই প্রকল্পের অধীনে সুদের ভর্তুকির সুবিধা দাবি করার যোগ্য নয়।

৪) এখানে একটা পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের বোঝায়। বৈবাহিক অবস্থার নির্বিশেষে একজন প্রাপ্তবয়স্ক উপার্জন সদস্য থাকলে সে এমআইজি  বিভাগে একটি পৃথক একটি পরিবার হিসাবে দাবি করতে পারে।

৫) এই স্কিমে ভর্তুকি সুবিধা নিলেও সেই  ব্যক্তি আয়কর আইনে গৃহ ঋণের ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধার ভোগ করতে পারবে।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments