আমরা প্যান কার্ড শব্দটির সাথে খুবই পরিচিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই কার্ডটি নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। আজ আমরা এই প্যান কার্ডের কতকগুলি বিষয়ে আলোচনা করবো যেগুলি আপনার জেনে রাখা ভালো।
প্যান বা পার্মানেন্ট একাউন্ট নাম্বার হল ১০ ডিজিটের একটি সংখ্যা যেটা আর্থিক পরিচয় প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্যান কার্ডে হোল্ডারের নাম, জন্ম তারিখ, পিতা / মাতার নাম ইত্যাদি থাকে।
প্যান কার্ড প্রধান কিছু আর্থিক লেনদেনের সময় প্রয়োজন হয়। প্যানের সাহায্যে আয়কর বিভাগ ব্যক্তির প্রকৃত উপার্জন জানতে তার সমস্ত আর্থিক লেনদেনের উপর নজর রাখে। এই প্যান কার্ড শিশু সহ সকল ভারতীয় নাগরিক, বিদেশী নাগরিক এবং অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) দের ইস্যু বা প্রদান করা হয়।
১) প্যানের প্রথম তিনটি অক্ষর A থেকে Z এর মধ্যে বর্ণানুক্রমিক সিরিজে থাকে। চতুর্থ অক্ষরটি ব্যক্তির অবস্থা প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন কোম্পানির জন্য সি, ব্যক্তির জন্য পি, সংস্থাগুলির জন্য এফ, ট্রাস্টের জন্য টি, সরকার জন্য জি। পঞ্চম চরিত্রটি আপনার সারনেম বা টাইটেলের প্রথম বর্ণ। অনান্যদের ক্ষেত্রে নামের প্রথম বর্ণ হয়।
ছয় থেকে নবম অক্ষর ০০০১ থেকে ৯৯৯৯ এর মধ্যে ক্রমিক সংখ্যা। এইগুলি র্যান্ডম ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়। প্যানের সর্বশেষ চরিত্রটি একটি বর্ণানুক্রমিক চেক ডিজিট। এটি পূর্ববর্তী নয়টি অক্ষর এবং সংখ্যার সূত্র প্রয়োগ করে তৈরি করা হয়।
২) আয়কর বিভাগ কোন তারিখে প্যান কার্ড প্রদান করেছিল তা লেখা থাকে। কার্ডের নীচের ডান পাশে কার্ডহোল্ডারের ফটোর ঠিক পাশে উল্লম্বভাবে তারিখটি উল্লেখ করা থাকে।
৩) আগে আবেদনকারীর প্যানের আবেদনপত্রে তাদের পিতার নাম দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সাল থেকে আবেদনকারীরা প্যানে মুদ্রিত হওয়ার জন্য বাবা অথবা মায়ের নাম নির্বাচন করতে পারেন। আবেদনকারীর মা একক মা বা সিংগল পেরেন্টস হলে পিতার নাম প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়।
৪) আয়কর আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বা কোম্পানির জন্য একটা প্যান অনুমোদিত। কেউ একাধিক প্যান ধারণ করলে তাকে আইনি বা আর্থিক শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। আয়কর আইন অনুসারে দুই বা তার বেশি প্যানের উপর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে। অতএব, যদি আপনি দুই বা তার বেশি প্যান ধারণ করে থাকেন তাহলে আপনার অতিরিক্ত প্যান সমর্পণ করুন।
৫) আগে প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে ব্যক্তির দুটি লিঙ্গের উল্লেখ থাকত। তার মধ্যে একটাতে টিক মারতে হত। যেমন পুরুষ অথবা স্ত্রী। ট্রান্সজেন্ডারদের কথা উল্লেখ থাকত না। ২০১৮ সালের ৯ই এপ্রিল থেকে প্যানের আবেদন করার সময় ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য একটি নতুন বক্স চালু করা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডারা প্যানের আবেদনের সময় এই বক্সে টিক করতে পারবেন।
৬) হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ), দৃঢ়, দাতব্য ট্রাস্ট ইত্যাদির ব্যতিত যদি কোনো ব্যক্তি যিনি আর্থিক বছরে ২.৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি টাকার আর্থিক লেনদেন করবেন এবং তাদের যদি কোনও প্যান কার্ড না থাকে, তাহলে তাদেরকে প্যান কার্ডের জন্য ২০১৯ সালের ৩১শে মে'র মধ্যে আবেদন করতে হবে।
৭) কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, ডাইরেক্টর, অংশীদার, ট্রাস্টি, লেখক, প্রতিষ্ঠাতা, কর্তা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), উল্লিখিত সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা বা অফিসার বা এই জাতীয় কোনো ব্যক্তি যদি বছরে ২.৫০ লাখ বা তার বেশী টাকার লেনদেন করবেন এবং তাদের যদি কোনও প্যান কার্ড না থাকে তাহলে তাদেরকে ২০১৯ সালের ৩১শে মে'র মধ্যে প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments
Post a Comment