আপনার স্থায়ী আমানতের অর্জিত সুদের ওপর ব্যাংক বা পোস্ট অফিস টিডিএস কেটে নিয়েছে? এখন আপনাকে কি করতে হবে জেনে নিন।

টিডিএস (TDS) বা আয়ের উৎস থেকে কর কাটার ব্যাপারে এখানে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন বিশেষ করে ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে যদি আপনার স্থায়ী আমানত করা থাকে।

আমাদের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে জমা রাখি। সেভিংস একাউন্টে টাকা রাখলে সুদের হার কম। সেজন্য আমরা টাকা স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোসিড-এ সঞ্চয়ের বেশী অংশ জমা রাখি। এখানে সুদের হার সেভিংস একাউন্ট থেকে বেশী এবং সেজন্য প্রাপ্ত সুদের পরিমাণও বেশী।

এখানে আমাদের জেনে রাখা ভাল যে স্থায়ী আমানত থেকে প্রাপ্ত সুদ সম্পূর্ণরূপে করযোগ্য। অর্থাৎ করযোগ্য আয় নির্ধারণ করার সময় এই সুদ বাবদ আয়ও ধরা হয়। ব্যক্তির বছরের মোট আয় গণনা করার সময় এই প্রাপ্ত সুদ বাবদ আয়গুলিকে 'অন্যান্য উৎস থেকে আয়' হিসাবে দেখাতে  হয়। ব্যক্তিকে আয়কর দিতে হবে কি হবে না সেটা নির্ভর করে তার মোট করযোগ্য আয়ের ওপর।

পূর্ববর্তী আর্থিক বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ সালের সাধারণ নাগরিকদের জন্য এই করযোগ্য আয়ের সীমা ছিল ২.৫০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকের অর্জিত সুদ সমেত আয় যদি ২.৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির আয়কর জমা দিতে হবে না।

কোনো আর্থিক বছরে অর্জিত সুদের পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তবেই ব্যাংক টিডিএস কাটতে দায়বদ্ধ। পূর্ববর্তী আর্থিক বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ সালের সাধারণ নাগরিকদের জন্য এই সীমা ছিল ১০ হাজার টাকা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি ছিল ৫০ হাজার টাকা।

একটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা জুড়ে এক ব্যক্তির  যত স্থায়ী আমানত আছে তার মোট সুদগুলি নিয়ে টিডিএস কাটার জন্য সুদ বাবদ আয়ের গণনা করা হয়। অর্থাৎ কোনো একটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমা রাখা আপনার স্থায়ী আমানত থেকে প্রাপ্ত সুদের পরিমাণ যদি ১০ হাজার বা ৫০ হাজার টাকার বেশী হয় তাহলে ব্যাংক অর্জিত সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে টিডিএস কেটে নেবে। যদি আপনার প্যান ব্যাংকে জমা না দেওয়া থাকে সেক্ষেত্রে এই টিডিএস ২০ শতাংশ হারে কাটা যাবে।

এখন প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের আপনার মোট আয় করযোগ্য নয় তবুও ব্যাংক বা পোস্ট অফিস আপনার স্থায়ী আমানতের অর্জিত সুদ থেকে টিডিএস কেটে নিয়েছে। তাহলে আপনি কি করবেন?

এখানে আপনাকে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে আয়কর বিভাগ থেকে রিফান্ড চাইতে হবে। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেবার সময় এপ্রিল ২০১৯ থেকে শুরু হয়ে গেছে। চলবে ৩১শে জুলাই, ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে টিডিএস বাবদ কাটা টাকা আপনার ব্যাংকে জমা পড়ে যাবে।

আর দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে এই চলতি অ৷র্থিক বছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ সালে ব্যাংক বা পোস্ট অফিস যাতে টিডিএস না কাটে তার জন্য আপনাকে কি করতে হবে?

২০১৯-২০ অ৷র্থিক বছরে মোট সুদ বাবদ আয়ের সীমাবদ্ধতা সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রবীণ নাগরিকদের আগের ৫০ হাজার টাকা বহাল আছে। তার মানে দাঁড়ায় ২০১৯-২০ সালের অ৷র্থিক বছরে কোনো সাধারণ নাগরিক যদি ৬ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত রাখে এবং বার্ষিক সুদের হার ৭ শতাংশ হয়, সেক্ষেত্রে অর্জিত সুদের ওপর কোনো টিডিএস কাটা হবে না। চলতি আর্থিক বছরে সুদ বাবদ আয় যদি ৪০ বা ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায় সেক্ষেত্রে ব্যাংক বা পোস্ট অফিস টিডিএস কেটে নেবে।

যদি কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য না হয় অর্থাৎ তার মোট আয় যদি কর ছাড়ের সীমার মধ্যে থাকে তাহলে সে আয়কর দিতে দায়বদ্ধ নয় এবং এক্ষেত্রে  আমানতকারী টিডিএস এড়াতে পারে। চলতি আর্থিক বছর ২০১৯-২০ সালে সাধারণ নাগরিকদের আয় যদি ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির আয়কর জমা দিতে হবে না।

চলতি আর্থিক বছরে অর্জিত সুদের ওপর টিডিএস না কাটাতে গেলে আপনাকে কি করতে হবে এবার জেনে নিন।

টিডিএস এড়াতে ব্যক্তিকে ফর্ম ১৫ জি বা ১৫ এইচ পূরণ করে ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। ফরম ১৫ জি যে সব ব্যক্তির বয়স ৬০ বছরের নিচে তাদের পূরণ করতে হবে আর যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশী তারা ফর্ম ১৫ এইচ পূরণ করবে। যে আর্থিক বছরে করযোগ্য আয় শূন্য হবে সেই আর্থিক বছর চলাকালীন এই ফর্মগুলি জমা দিতে হবে। সাধারণত পুরনো স্থায়ী আমানতগুলির জন্য প্রতি আর্থিক বছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই ফর্ম ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। আর নতুন স্থায়ী আমানত খোলার সময় এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।

তাছাড়া আরেকটি উপায়ে এই টিডিএস আপনি এড়াতে পাড়েন। সেটা হল আপনার আমানতগুলি একই ব্যাংকে না রেখে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখুন যাতে করে কোনো এক ব্যাংকে মোট অর্জিত সুদ ৪০ বা ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে না যায়।

আপনি স্টেট ব্যাংকের গ্রাহক হলে কিভাবে অনলাইনে ১৫জি বা ১৫এইচ ফর্ম জমা দেবেন জেনে নিন।

১) এসবি আই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.onlinesbi.com -এ লগইন করুন।

২) ওপরের প্যানেলে 'ই সার্ভিসে' ক্লিক করুন।

৩) বাঁদিকের প্যানেলে 'ফর্ম ১৫জি/এইচ' এ ক্লিক করুন।

৪) ব্যাংকের যে শাখায় আমানতগুলি আছে সেই শাখার কোড সিলেক্ট করুন।

৫) পরের পাতায় কিছু সাধারণ তথ্য দেওয়া থাকবে।

৬) এবারে নিচের তথ্যগুলি পূরণ করুন।

*আপনি কি করযোগ্য আয়ের মধ্যে পড়েন- হাঁ/না।
* যদি হাঁ হয় তাহলে কর মূল্যায়ন বছর বা এসেসমেন্ট ইয়ার।
* কর মূল্যায়ন বছর বা এসেসমেন্ট ইয়ারের আনুমানিক আয়।
* মোট কটা ফর্ম ১৫জি/এইচ' পূরণ করেছেন।
* যে জন্য ফর্ম ১৫জি/এইচ পূরণ করছেন সেই বাবদ আয়ের থোক পরিমাণ।

৭) নিরাপত্তা পাসওয়ার্ড পাবার জন্য সাবমিটে ক্লিক করুন।

৮) নিরাপত্তা পাসওয়ার্ড কনফার্ম করুন এবং ফর্ম জমা সঠিক ভাবে হয়েছে বলে আপনি একটি বার্তা মোবাইলে পেয়ে যাবেন। এই পেজ থেকে আপনি জমা দেওয়া ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments