২০১৯ -২০ নতুন আর্থিক বছরে আয়কর আইনের কিছু ধারার পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি ১লা এপ্রিল, ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে।


বর্তমান সরকার ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী বাজেটে ২০১৯ -২০ নতুন আর্থিক বছরের জন্য আয়কর আইনের কিছু ধারার পরিবর্তন পেশ করে। এই পরিবর্তনগুলি ১লা এপ্রিল, ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে।

আসুন আমরা এখানে জেনে নি গুরুত্বপূর্ণ আয়কর আইনের কিছু পরিবর্তন:

১) করযোগ্য আয় বছরে ৫ লাখ টাকার থেকে কম আয় হলে আয়কর লাঘু হবে না!
যদি আপনার মোট করযোগ্য আয় ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে না যায় তাহলে আয়কর দিতে হবে না। আয়কর আইনের ৮৭ ধারায় কর ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ১২,৫৯০ টাকা করা হয়েছে, যার ফলে ৫ লাখ টাকায় আয়ে আয়কর থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে।
এখানে জেনে রাখা ভালো যে মোট আয়ের থেকে আয়কর আইনের সমস্ত ছাড় বাদ দিলে যে আয় বার হয় তা হল করযোগ্য আয়।

২) আপনার করযোগ্য আয় যদি ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায় তাহলে কি হবে?
আপনার করযোগ্য আয় যদি ৫ লাখ টাকা থেকে ১ টাকাও বেশী হয় তাহলে ৮৭ ধারার কর ছাড় পাওয়া যাবে না। যাইহোক, যে সব ব্যক্তির আয় মূল ছাড়ের লিমিট ২.৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে তাদেরকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

৩) স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকসন বাড়ানো হয়েছে।
বেতনভুক্ত ব্যক্তিদের স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকসন ৪০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এখানে পরিবহন এলাউন্স এবং মেডিকেল এলাউন্স  বাবদ ছাড় দাবি করা যাবে না।

৪) সম্পত্তির নোশোনাল বা ধারণাগত আয়ের উপর কোন আয়কর নেই।
গত বছর পর্যন্ত, কোন ব্যক্তির  দ্বিতীয় কোন বাড়ি বা ফ্লাটের  মালিক হলে এবং সেটা খালি থাকলেও  সম্পত্তির উপর নোশোনাল বা ধারণাগত ভাড়ার উপর কর ধার্য করা হত। এই আর্থিক বছর থেকে এই ধরনের ধারণাগত আয়ের উপর কোন কর ধার্য করা হবে না।

৫) নতুন টিডিএস সীমাবদ্ধতা কত?
২০১৯-২০ অ৷র্থিক বছরে মোট সুদ বাবদ আয়ের সীমাবদ্ধতা সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রবীণ নাগরিকদের আগের ৫০ হাজার টাকা বহাল আছে।

৬) দীর্ঘ মেয়াদী মূলধনী লাভ থেকে একটির পরিবর্তে দুটি ঘরে বা ফ্লাটে বিনিয়োগ।
করদাতারা তাদের সম্পত্তি বিক্রি বাবদ দীর্ঘ মেয়াদী মূলধনী লাভ থেকে একটির পরিবর্তে দুটি ঘরে বা ফ্লাটে বিনিয়োগ করে কর এড়াতে পারবেন।

৭) দীর্ঘ মেয়াদী মূলধনী লাভের সুবিধা গ্রহণের সীমাবদ্ধতা।
করদাতারা তাদের সম্পত্তি বিক্রি বাবদ দীর্ঘ মেয়াদী মূলধনী লাভ থেকে একটির পরিবর্তে দুটি ঘরে বা ফ্লাটে বিনিয়োগ করে কর এড়াতে পারবেন যদি ব্যক্তির জীবনকালে এই লাভ ২ কোটি টাকা না ছাড়ায়।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments