জেনে নিন টাকা তোলা বা মিনি স্টেটমেন্ট বার করা বা PIN চেঞ্জ করা ছাড়াও ATM মেশিন থেকে আর কি কি কাজ করা যায়।
এটিএম থেকে আপনি নগদ টাকা তুলতে পারেন, ব্যালেন্স জানতে পারেন বা PIN ও পরিবর্তন করতে পারেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে এটিএম এ প্রায় ৮৩৮.৯২ বার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল যার আর্থিক লেনদেন মূল্য ২৭৭৮.৬৯ বিলিয়ন টাকা। ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরোও বাড়বে।
কিন্তু আপনি কি জানেন নগদ টাকা তোলা ছাড়াও এটিএমটি থেকে আপনি আপনার অন্য দরকারী কাজও সারতে পারেন। এই এটিএম এর মাধ্যমে আপনি আয়কর পেমেন্ট , মিউচুয়াল ফান্ডগুলিতে বিনিয়োগ, ফিক্সট ডিপোসিট খোলা, মোবাইল রিচার্জ, এমনকি ব্যক্তিগত ঋণের জন্যও আবেদন করেতে পারেন।
আসুন জেনে নি অন্য কি কি পরিষেবা রয়েছে যা এটিএম থেকে আমরা পেতে পারি।
১) প্রাক অনুমোদিত ব্যক্তিগত ঋণ (pre approved personal loan) এর আবেদন!
অনেকেই জানেন না যে এটিএম এর মাধ্যমে আপনি ব্যক্তিগত ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, আইসিআইসিআই ব্যাংক তার ওয়েবসাইটে জানায় যে নগদ টাকা তোলার পরে স্ত্রিনে ফুটে উঠবে আপনি সর্বাধিক কত টাকা ব্যক্তিগত ঋণ হিসাবে পেতে পারেন এবং আপনি ইচ্ছুক হলে আবেদনের পরবর্তি পদক্ষেপ নিতে পারেন। একবার ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন গৃহীত হলে, এটিএম এর পর্দায় ছয় প্রকার অফার দেখাবে যা গ্রাহকের ব্যক্তিগত ঋণের জন্য প্রযোগ্য। পরবর্তী পর্দাটি স্ট্যান্ডার্ড EMI দেখাবে যা সমস্ত গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য।
এভাবে এটিএমগুলিতে আপনি ব্যক্তিগত ঋণের জন্য সুদের হার, মেয়াদ এবং বিভিন্ন চার্জ দেখে নিতে পারেন এবং এবং শর্তাদি এক্সেপ্ট করলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পরে যাবে।
২) বিল পেমেন্ট বা পরিশোধ!
আপনার বিল পরিশোধ করার জন্য আপনাকে আর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। সে দিন চলে গেছে। এটিএমগুলিতে এখন এ সব কাজ বেশ সহজেই করা যায়। আপনার ব্যাংকের এটিএম এ গিয়ে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে আপনি বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলিং ও অনান্য ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট করতে পারেন।
৩) স্থায়ী আমানত বিনিয়োগ!
প্রথমেই আপনাকে জেনে নিতে হবে যে আপনার ব্যাংক এই পরিষেবা দেয় কিনা।বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংক এবং প্রধান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাঙ্কগুলি ভারতীয় নাগরিকদের এই পরিষেবাটি দেয়। কোনও FD র অবেদনের জন্য গ্রাহককে তাদের ডেবিট কার্ড PIN সহ ব্যবহার করে বিনিয়োগের পরিমাণ এবং মেয়াদ জানাতে হবে। আবেদনটি পূরণ করার পরে ব্যাংক সাধারণত ৩ দিনের মধ্যে FD সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তার FD বা স্থায়ী আমানতের সার্টিফিকেটটি গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবে। এতে আপনার অনেক সময় বাঁঁচবে।
৪) মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ!
এটিএমের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডগুলির পরিষেবা নিতে গেলে আপনাকে আগে অবশ্যই ব্যাংকে রেজিস্ট্রেশণ করাতে হবে। একজন ব্যক্তি তাদের মিউচুয়াল ফান্ডগুলিকে তাদের ডেবিট কার্ডের সাথে লিঙ্ক করতে পারেন। তারপরে তাদের স্কিম থেকে অর্থ ফেরত বা এটিএম থেকে কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার কার্ডের বিবরণ জমা দেওয়া!
এই প্রক্রিয়াটি বেশ প্রচলিত। অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের তাদের ১২ডিজিট বায়োমেট্রিক আধার কার্ডটি এটিএমের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের সাথে নিবন্ধন করতে বলে। এটিএম লগ ইন করার পরে পর্দায় রেজিস্ট্রেশন বোতামটি নির্বাচন করে আধার তথ্য ফিড করতে পারেন বা তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন। গ্রাহক নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এর নটিফিকেশণ পেয়ে যাবে।
৬) বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ!
এখন বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ সহজ করা হয়েছে। আপনি যে কোনও এটিএমগুলির মাধ্যমে আপনার প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারেন। এলআইসি এবং এসবিআই লাইফের মতো অনেক বীমা প্রদানকারী তাদের গ্রাহকদের এই সুবিধাটি দেয়। এর জন্য এটিএম এ বিল পরিশোধের বোতাম নির্বাচন করতে হবে। বীমা কোম্পানীর নাম, পলিসির নম্বর, জন্ম তারিখ, প্রিমিয়ামের টাকা ইত্যাদি বিবরণ ভরার পর এই লেনদেন সম্পূর্ণ করা যাবে।
৭) মোবাইল এবং DTH রিচার্জ!
আপনাকে রিচার্জ করার জন্য রাস্তায় দোকান খুঁজে বেড়াতে হবে না। এটিএম এ মোবাইল রিচার্জ দ্রুত এবং অতি সহজে হয়ে যায়। এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, এসবিআই, ফেডারেল ব্যাংক, এক্সিস ব্যাংক, কর্পোরেশন ব্যাংক প্রভৃতি অনেক ব্যাংক এই পরিষেবাটি দেয়। এখানে শুধু আপনার মোবাইল নম্বর এবং রিচার্জের টাকা জানাতে হবে। এ কাজটি সম্পন্ন হলে, আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে তাত্ক্ষণিক টাকা কেটে নেবে এবং আপনার মোবাইল / ডিটিএইচ রিচার্জ হয়ে যাবে।
৮) কার্ডলেস টাকা তোলা!
আপনার কাছে ডেবিট কার্ডটি না থাকলেও আপনি নগদ টাকা তুলতে পারবেন। এই পরিষেবাটি বেশিরভাগ এটিএম মেশিনে পাওয়া যায়। যে গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের এটিএম অ্যাক্সেস আছে এমন কাউকে আপনি আপনার তহবিল থেকে টাকা পাঠাতে পারেন। প্রাপক এক্ষেত্রে ডেবিট কার্ড ব্যবহার না করেই মোবাইল নাম্বার সহ নির্ধারিত কোডগুলি এন্ট্রি করে এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে পারবে।
৯) রেলওয়ে টিকেট!
এসবিআই, পিএনবি এবং অন্যান্য অনেক ব্যাংক ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম এ আপনার ট্রেনের টিকেট বুক করার পরিষেবা দেয়। এখন আর রেলওয়ে স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনার ইন্টারনেট প্যাক শেষ হয়ে গেলে এটির সাহায্যে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন। তবে এই সুবিধা শুধু মাত্র রেলওয়ের প্রাঙ্গনেই পাওয়া যায়।
১০) আয়কর পেমেন্ট!
এই বিষয়টি খুব কম লোকই জানে কারণ সব ব্যাংক এই পরিষেবাটি দেয় না। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জেনে নিতে হবে আপনার ব্যাংকে এই সুবিধা আছে কিনা। যে ব্যাংক এই সুবিধা দেয় সেই ব্যাংকের এটিএমের মাধ্যমে আপনি সব রকমের আয়কর জমা করতে পারবেন। এই সুবিধাটির জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে বা তার কোনও শাখায় নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশণ করতে হবে। এটিএম এ আয়কর পেমেন্টের পর আপনি একটি কোড পাবেন যেটা ২৪ ঘন্টার পর ব্যাংকে দেখিয়ে আয়কর পেমেন্টের চালানটি প্রিন্ট পরে নিতে পারেন।
১১) আপনার আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) ভেরিফিকেশণ বা যাচাই করুন!
আয়কর বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা আছে যে, এটিএম এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) ফাইলিং ই-যাচাই করা যাবে।এরজন্য গ্রাহককে এটিএম এ তাদের ডেবিট কার্ডটি সোয়াইপ করার পর ই-ফাইলিংয়ের জন্য বোতামে ক্লিক করতে হবে। একটি EVC গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পাঠানো হবে। তারপরে গ্রাহক ই-ফাইলিং পোর্টালে লগইন করে ব্যাংক এটিএম ই-ভেরিফিকেশণ করার বোতামটি নির্বাচন করতে হবে। ই-ফাইলিং পোর্টালে EVC টি লিখুন, এবং সাথে সাথেই ভেরিফাই বা যাচাই হয়ে যাবে।
১২) টাকা জমা দেওয়া!
গ্রাহক এটিএম ব্যবহার করে টাকা জমা করতে পারেন। অনেক ব্যাংক এই পরিষেবা দেয়। মেশিনে ডেবিট কার্ড সোয়্যাপ করার পর টাকা জমা দেবার জন্য নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে হবে। টাকা জ মা দেবার কাজ শেষ হলে আপনার মোবাইল নম্বরের তার কনফার্মেশন চলে আসবে।
সুতরাং আপনার জীবন আরোও সহজ ও সরল করার জন্য ATM কে আরো ও বেশী কাজে লাগান।

Comments
Post a Comment