জেনে নিন আপনি কিভাবে আয় বাড়াবেন এবং সাথে কি ভাবে আয়করের বোঝা কমাবেন।


২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেবার সময় প্রায় দোরগোড়ায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে আপনার ওপর জরিমানা ধার্য করা হতে পারে। সুতরাং এখনই সচেতন হয়ে যান এবং ট্যাক্স প্ল্যানিং সময় হাতে থাকতে করে নিন।

আজ আমরা আলোচনা করবো কয়েকটি উপায় যেখানে আপনি আয় বাড়াতে এবং সাথে করের বোঝাও কমাতে পারবেন।

১) ট্যাক্স সেভিংস বিনিয়োগগুলোর মেয়াদ শেষ হলে টাকা তুলে সেগুলো পুনরায় বিনিয়োগ করুন।  পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সপ্তম বছরের পর আংশিক টাকা তুলে নেওয়া যায়। সেই টাকা তুলে আপনি বিনিয়োগ করে আয়কর ছাড় দাবী করুন। আপনাকে বিনিয়োগের জন্য নতুন করে টাকার জোগাড় করতে হবে না। 80C ধারা অনুযায়ী সর্বাধিক ছাড় ১.৫০ লক্ষ টাকা।

২) সিনিয়র নাগরিক বাবা-মায়ের সাহায্যে  আয় বাড়ান এবং আয়কর বাঁচান। আপনি আপনার সিনিয়র নাগরিক বাবা-মায়ের ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে আপনার সঞ্চয় জমা করতে পারেন এবং তাদের প্রতিটি অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক বছরে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর-মুক্ত সুদ উপার্জন করতে পারেন। আপনার বাবা-মা অন্যান্য ট্যাক্স-সঞ্চয়কারী স্কিমগুলিতে  বিনিয়োগ করতে পারে যেগুলো  80C ধারার সুবিধা পাওয়া যায়।

৩) সাধারণত আমরা ব্যাংক থেকে হোম লোন নিলে তার সুদের ওপর আয়কর ছাড়ের সুবিধা পাই। কিন্তু যানেন কি 24B  ধারা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কাছ থেকে লোন নিলেও আপনি সুদের ওপর আয়কর ছাড়ের সুবিধা পাবার যোগ্য। এক্ষেত্রে  বাবা- মায়ের কাছ থেকে উপযুক্ত সুদ সার্টিফিকেট নিতে ভুলবেন না। এই ধারা অনুযায়ী সর্বাধিক ছাড় ২ লক্ষ টাকা।

৪) বাবা- মায়ের সাথে রেন্ট এগ্রিমেন্ট করে ভাড়া বাবদ রসিদ নিয়ে নিন। 10(13A) ধারা অনুযায়ী এই ভাড়ার রসিদ দেখিয়ে আপনি এইচআরএ ছাড় দাবি করতে পারেন এবং আপনার আয়করের বোঝা কমাতে পারেন।

৫)  80C ধারা অনুযায়ী  দুই ছেলেমেয়ের প্রাক নার্সারি এবং নার্সারির টিউশন ফি বাবদ খরচ আয়কর থেকে ছাড় পাওয়া যায়। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই তার রসিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এই ছাড়টি ২০১৫ সাল থেকে চালু হয় এবং অনেকেরেই এই ছাড়টির সম্বন্ধে জানা নেই।

৬) আপনার নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য বীমা প্রিমিয়াম বাবদ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।  সিনিয়র নাগরিক বাবা-মায়ের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রিমিয়াম পেমেন্ট করলে আপনি 80D ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয়কর ছাড় পাবেন। এছাড়াও, আপনি যদি আপনার সিনিয়র নাগরিক বাবা-মায়ের ওষুধের খরচ দিয়ে থাকেন তাহলেও আপনি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয়কর ছাড় পাবেন। এর প্রমাণ হিসাবে সব বিল এবং প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে রাখবেন।

৭) বাড়ীর জন্য হোম লোন নেওয়া থাকলে বাড়ীর স্টাম্প ডিউটি বাবদ খরচ সেই আর্থিক বছরে 80C ধারায় আয়কর ছাড় দাবী করতে পারেন।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com -এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments