নতুন নিয়মে জিএসটির অধীনে কোন কোন ব্যবসার নিবন্ধন বা রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক জেনে নিন।

আপনি কি কোনো করযোগ্য পণ্য বা পরিষেবা ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত আছেন? তাহলে ভারত সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে জিএসটি রেজিশট্রেশন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে এর ছাড় আছে। আজ আমরা আলোচনা করবো কোন কোন ব্যবসায়ীরা জিএসটি রেজিশট্রেশনের আওতায় পরবেন। অর্থাৎ কাদের জিএসটি রেজিশট্রেশন বাধ্যতামূলক। আর সাথে আলোচনা করবো কাদের এই রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক নয়।  যে কোনো ব্যবসায়ী তার ব্যবসার সুবিধার জন্য স্বেচ্ছায় জিএসটি রেজিশট্রেশন করতে পারে। সেখানে কোনো বাধা নেই।

আসুন আমরা জেনে নি কোন কোন ব্যবসায়ীরা এই জিএসটি রেজিশট্রেশনের আওতায় পরবেন আর কারা পরবেন  না।

১) বর্তমানে যে সব ব্যবসায়ী রাজ্যে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করযোগ্য পণ্য বা পরিষেবা অথবা পণ্য ও পরিষেবা দুটিই একসাথে ব্যবসা করে এবং যাদের বার্ষিক মোট লেনদেন ২০ লাখ টাকার বেশী সেই সব ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের জিএসটি রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক। কিছু নির্দিষ্ট রাজ্যেগুলির ক্ষেত্রে এই বার্ষিক মোট লেনদেন ১০ লাখ টাকার বেশী হলেই রেজিশট্রেশন বাধ্যতামূলক।

গত ৭ই মার্চ, ২০১৯ সালে জিএসটি বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি ( ১০/২০১৯ নং) জারি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে  জিএসটি রেজিশট্রেশনের কিছু নিয়ম অদল বদল করেছে। এই নিয়মে আরোও কিছু ব্যবসায়ীদের জিএসটি রেজিশট্রেশনের আওতায়ের বাইরে রেখেছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুবই উপকৃত হবে। এই নতুন নিয়ম চালু হবে ১লা এপ্রিল, ২০১৯ তারিখ থেকে।

নতুন বিজ্ঞপ্তি  অনুসারে যে সব ব্যবসায়ী রাজ্যে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুধুমাত্র করযোগ্য পণ্য ব্যবসা করে এবং যাদের বার্ষিক মোট লেনদেন ৪০ লাখ টাকার কম  সেই সব ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের জিএসটি রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক নয়। এখানে মনে রাখা দরকার এই নিয়ম শুধু মাত্র পণ্য ব্যবসায়ীদের জন্য। পরিষেবা ব্যবসায়ীরা এই ছাড়ের আওতায় পড়বেন না। কিছু নির্দিষ্ট রাজ্যেগুলির ক্ষেত্রে এই বার্ষিক মোট লেনদেন ১০ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে রেজিশট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়।

কিন্তু  নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীগণ এই ছাড়ের আওতায়ের বাইরে। অর্থাৎ নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীগণের বার্ষিক লেনদেন ৪০ বা ১০ লাখ টাকার নিচে থাকলেও তাদের জিএসটি রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক।

(ক) যে সকল ব্যক্তি বা ব্যবসা জিএসটি আইনের ২৪নং ধারায় থাকবে তাদের  জিএসটি রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক।
যেমন- আন্তঃ রাজ্য ব্যবসা, ই কমার্স ব্যবসা ইত্যাদি।

(খ)  যে সকল ব্যক্তি বা ব্যবসা নিম্নলিখিত পণ্য ব্যবসায়ে জড়িত ব্যক্তি, তাদের  জিএসটি রেজিশট্রেশনের বাধ্যতামূলক।

১) এইচএনএস কোড - ২১০৫ ০০ ০০- আইসক্রিম এবং অন্যান্য বরফ জাতীয় খাবার সেখানে কোকো থাকুক বা না থাকুক।

২)এইচএনএস কোড ২১০৬ ৯০ ২০- পান মশলা।

(৩)এইচএনএস কোড ২৪- সমস্ত পণ্য, যেমন তামাক এবং  তামাক জাতীয় বিকল্প প্রস্তুত পণ্য।

(গ) যে সকল ব্যক্তি বা ব্যবসা অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, পুদুচেরি, সিকিম, তেলঙ্গানা, ত্রিপুরা, উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় যুক্ত। এখানে আগের নিয়ম প্রযোজ্য। আগের নিয়ম অনুসারে এই সব রাজ্যেগুলির ক্ষেত্রে এই বার্ষিক মোট লেনদেন ১০ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে রেজিশট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়।

(ঘ) ব্যক্তি ২৫ ধারার উপ-ধারা (৩) এর অধীন বিধান বাছাই করা ব্যক্তি, বা এই নিবন্ধিত ব্যক্তি, যিনি উক্ত আইন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় তাদের নিবন্ধীকরণ চালিয়ে যেতে চান।

এই বিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র একই রাজ্যের মধ্যে পণ্য সরবরাহকারীদের ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং এই ছাড় পরিষেবা বা সার্ভিস সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট কতকগুলি রাজ্যের জন্য ও এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।

এখন জেনে নিন বার্ষিক মোট লেনদেনের পরিমাণ কিভাবে গণনা করা হবে:

ক) সমস্ত করযোগ্য সরবরাহের মূল্য। এর থেকে বাদ যাবে কর-ছাড় পণ্য সরবরাহ, পণ্য বা পরিষেবা রপ্তানি বা উভয়ই এবং আন্তঃ রাজ্য সরবরাহগুলি।

খ) বার্ষিক মোট লেনদেনটি সমগ্র ভারতে একটা প্যান কার্ডের অধীনে একজন ব্যক্তির হিসাবে গনণা করা হবে।

গ) বার্ষিক মোট লেনদেনটি গনণা করার সময় কোন কেন্দ্রীয় ট্যাক্স, রাজ্য ট্যাক্স, ইউনিয়ন অঞ্চল ট্যাক্স এবং ইনটিগ্রেটেড ট্যাক্স এবং সেস অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

ঘ) বার্ষিক মোট লেনদেনটি গনণা করার সময় যে সব ক্রয়ের ওপর রিভার্স চার্জ কর কার্যকর হয় তার ক্রয় মূল্য ধরা হবে না।

এই বিজ্ঞপ্তিটি ২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments