আপনি কি নগদে লেনদেন করেন? আপনি কি কোনো ব্যবসায় বা পেশায় জড়িত এবং নগদে লেনদেন করতে হয়? তাহলে এই নগদ অর্থ লেনদেনের কতকগুলি নিষেধাজ্ঞা জেনে রাখা ভাল।
নগদ অর্থে লেনদেনের নিষেধাজ্ঞাগুলি জানা থাকলে আইন মেনে আপনি নগদ লেনদেন করলে আইনের কবলে পড়বেন না এবং সহজেই আয়কর আইনের জরিমানা এড়াতে পারবেন।
বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে আমাদের দেশে নগদ লেনদেন কমে গেছে এবং অনেকেই এখন নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকেচ্ছে।অনেকেই ডিজিটাল ওয়ালেট, ইউপিআই এবং অনান্য ডিজিটাল লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। তবুও আমাদের দেশে অন্যান্য জনবহুল দেশেগুলির তুলনায় নগদে লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশী।
আপনি যখন নগদ লেনদেন করবেন তখন নিচের নিয়ম গুলি মাথায় রাখতে হবে। এই নিয়মগুলি মেনে চললে আপনি আইনি ঝামেলা এড়াতে পারবেন।
১) একজন বক্তির কাছ থেকে দিনে ২ লাখ টাকা বা তার বেশী নগদ নেওয়া যাবে না।
আয়কর আইনের 269ST ধারা অনুযায়ী, কোনো এক বা একাধিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং তার বেশি নগদ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘন করলে যে পরিমাণ টাকা নগদ লেনদেনে গ্রহন করেছেন সেই পরিমাণ টাকার পেনাল্টি ধার্য করা হবে। এই আইনটি কোম্পানি, ব্যক্তি, অংশীদারি, ব্যবসা ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এই নিয়ম ব্যাংক, সরকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আয়কর আইন অনুসারে-
ক) একই দিনে একই ব্যক্তির কাছ থেকে তার বিভিন্ন বিলের ২ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদে পেমেন্ট নেওয়া নিষিদ্ধ।
ক) একই দিনে একই ব্যক্তির কাছ থেকে তার বিভিন্ন বিলের ২ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদে পেমেন্ট নেওয়া নিষিদ্ধ।
খ) একটা বিলের বিভিন্ন দিনে নগদ ২ লাখ টাকা বা তার বেশি অর্থ গ্রহণ করাও নিষিদ্ধ।
গ) একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো এক অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত অনেকগুলি বিলের পেমেন্ট বাবদ ২ লাখ টাকা বা তার বেশি গ্রহণ করা যাবে না।
এই পেমেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেল মানে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন একাউন্ট ট্রান্সফার, চেক বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে নিতে হবে।
২) দিনে ১০ হাজার টাকার বেশী নগদ পেমেন্ট করা নিষিদ্ধ।
আয়কর আইনের 40A (3) ধারা অনুযায়ী, ব্যবসা বা পেশার সাথে সম্পর্কিত ব্যয়ের জন্য কোনো ব্যক্তিকে ১০,০০০০ টাকার উপরে নগদ অর্থে পেমেন্ট করা নিষিদ্ধ। এই সীমার উপরে নগদ অর্থে পেমেন্ট করলে সেই ব্যয় ব্যবসায় বা পেশার আয় থেকে ছাড় দেওয়া হবে না।
৩) সম্পত্তি বিক্রয়,ঋণ বা আমনত জমার ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি অর্থ নগদে নেওয়া ও পরিশোধ করা যাবে না।
আয়কর আইনের 269SS ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি ঋণ নেওয়া বা আমানত জমা দেওয়ার নগদ ২০,০০০ টাকা বা তার থেকে বেশি হওয়ার অনুমতি দেয় না। সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি অর্থ নগদে নেওয়া নিষিদ্ধ। এই সব ক্ষেত্রে লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করতে হবে।
এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্রাপককে নগদ অর্থের সমান জরিমানা ধার্য করা হবে। সাথে ২ বছরের কারাদন্ডও হতে পারে।
৪) নগদ ২,০০০ টাকার থেকে বেশি দানের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
আয়কর আইন বিভাগের 80G এবং 80GGC ধারা অনুযায়ী, কোনো এনজিও বা দাতব্য সংগঠনকে ২,০০০ টাকার থেকে বেশি নগদ অর্থ দান করলে আয়কর থেকে কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না। কোন নিবন্ধিত ট্রাস্ট বা রাজনৈতিক দলকে ২,০০০ টাকা বা তার বেশি নগদ অর্থ দান হিসাবে দেওয়া নিষিদ্ধ। এই সীমার উপরে কোন নগদ দানে আয়কর ছাড় পাওয়া যাবে না।
সুতরাং নগদ লেনদেন করার আগে ওপরের বিষয়গুলি মাধায় রাখবেন তাহলে আপনাকে আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে না।
প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments
Post a Comment