জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যেগুলি ১লা এপ্রিল ২০১৯ সাল থেকে পরিবর্তিত হয়েছে।

নতুন আর্থিক বছরে প্যান কার্ড, ব্যাংকিং, মিউচুয়াল ফান্ড, ইপিএফ, জিএসটি এবং অন্যান্য বিষয়ে  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পরিবর্তন হতে চলেছে।
এখন সেইরকম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তিত নিয়ম নিচে দেওয়া হল যেগুলি ১লা এপ্রিল ২০১৯ থেকে কার্যকরী হবে:

১) প্যানের সাথে আধার নম্বর লিংক-
আয়কর আইনের ১৩৯এএ ধারায় বলা আছে যারা ১লা জুলাই ২০১৭ সালের মধ্যে প্যান পেয়েছেন সেই সব ব্যক্তির প্যানের সাথে আধার নম্বর লিংক করা বাধ্যতামূলক। আধারের সাথে প্যান কার্ডের লিংক করার শেষ তারিখ ছিল ৩১শে মার্চ ২০১৯। আয়কর বিভাগের আদেশ এবং বিজ্ঞপ্তি অনুসারে এর মধ্যে লিংক করা না হলে প্যান অকার্যকর হয়ে যেত। আয়কর বিভাগ গত ৩১শে মার্চ ২০১৯ তারিখে সরকারী গেজেটে একটি নটিফিকেশন প্রকাশ করেছে। এই নটিফিকেশনে বলা হয়েছে আছে যারা ১লা জুলাই ২০১৭ সালের মধ্যে প্যান পেয়েছেন সেই সব প্যানের সাথে আধার নম্বর লিংক করা বাধ্যতামূলক। আধারের সাথে প্যান কার্ডের লিংক করার শেষ তারিখ ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৯। এর মধ্যে এই লিংক করা না হলে প্যান অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

২) ট্রেন মিস করলে টিকেটের টাকা ফেরত-
১লা এপ্রিল থেকে ট্রেন দেরিতে পৌঁছালে আপনি যদি আপনার যাত্রার কানেকটিং ট্রেন মিস করেন তবে টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কানেকটিং ট্রেন ধরার স্টেশন কাউন্টার থেকে আপনি সহজেই  পিএনআর নম্বর লিঙ্ক করে পরবর্তি ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন। এর জন্য কোনো ক্যান্সেলেশন চার্জ কাটা হবে না। এই সুবিধা বর্তমানে প্লেন যাত্রীদের দেওয়া হয়। কানেকটিং ফ্লাইট মিস করলে যাত্রীদের পরবর্তী কোনো ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। এবার থেকে ট্রেনের যাত্রীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩) টোটাল এক্সপেন্ডিচার রেসিও-
সেবি মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কিত কিছু  নিয়ম ১লা এপ্রিল ২০১৯ তারিখ থেকে পরিবর্তন করেছে। নতুন নিয়ম অনুসারে মোট ব্যয়ের অনুপাত (টোটাল এক্সপেন্ডিচার রেসিও বা টিইআর) ২.২৫ হবে। এই টিইআর চার্জ ফান্ড ম্যানেজাররা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে। আপনি যদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে ফান্ড ম্যানেজার টিইআর বাবদ ২.২৫ লাখ টাকা চার্জ করবে। আর আপনার ফান্ড বৃদ্ধি যদি ১০ শতাংশ হয় তাহলে নেট বৃদ্ধি হবে ৭.৭৫ শতাংশ। এরকমই ক্লোজ-এন্ড স্কিমের জন্য টিইআর ১.২৫ শতাংশ হবে। ইক্যুইটি স্কিম ছাড়া অন্য স্কিমগুলির জন্য টিইআর ১ শতাংশ হবে।

৪) বাইকের অ্যাক্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম-
১লা এপ্রিল, ২০১৯ তারিখ থেকে ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলগুলিতে অ্যাক্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম ( এবিএস)  থাকতে হবে এবং ১২৫ সিসির পর্যন্ত মোটরসাইকেলগুলিতে  কম্বি ব্রেকিং ( সিবিএস) সিস্টেম বাধ্যতামূলক হবে। অ্যাক্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম বা এবিএস-এর  কাজটি বেশ সহজ। গাড়ি চার চাকা বা দু চাকা হোক, এবিএস-এর কাজ হার্ড ব্রেকিং এর সময় চাকাগুলি যাতে লক না হয় সেদিক নজর রাখা। চাকাগুলি লক না হলে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যে হার্ড ব্রেক মারার পরও আপনি স্টিয়ারিং এবং চার চাকা বা দু চাকার গাড়ীর ডাইরেকশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কম্বি-ব্রেকিং সিস্টেম বা সিবিএস কাজ করে যখন পিছনের ব্রেক লিভারে চাপ দিয়ে দুই চাকার ব্রেক  সক্রিয় করা হয়।

৫) শেয়ারের ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট-
যদি আপনার কাছে শেয়ার সার্টিফিকেট গুলি এখনও কাগজের ফর্মে থাকে তাহলে  শেয়ারগুলিকে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তর করুন। ১লা এপ্রিল ২০১৯ সালের পরে শুধু মাত্র ডিম্যাট একাউন্টের শেয়ারগুলিকেই বৈধ শেয়ার বলে বিবেচিত হবে। কাগজের শেয়ারগুলি দিয়ে এখন থেকে আর লেনদেন করতে পারবেন না।

৬) বিদ্যুৎ বিল প্রিপেইড-
১লা এপ্রিল থেকে সব রাজ্যে বিদ্যুৎ বিল প্রিপেইড হবে। আপনি যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চান তার জন্য আপনি রিচার্জ করতে পারেন। নতুন প্রিপেইড মিটার ঘরে স্থাপন করা হবে।

৭) MCLR এর বদলে এক্সটারনাল বেঞ্চমার্কে লিঙ্ক-
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী, সব ব্যাংককে ঋণের হার মারজিনাল কস্ট অফ ফান্ডস বেসড লেন্ডিং রেটের বা  MCLR এর বদলে এক্সটারনাল বেঞ্চমার্কে লিঙ্ক করতে হবে। এটি ১লা এপ্রিল থেকে বাধ্যতামূলক হয়ে যাবার কথা ছিল। রিটেল ঋণ এই ফলে কমে যাবার  সম্ভাবনা আছে। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) ইতোমধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করেছে।

৮) ফ্লাটের নতুন জিএসটির হার -
রিয়েল এস্টেট সেক্টরে নতুন জিএসটির হার ১লা এপ্রিল থেকে প্রযোজ্য হবে। সাশ্রয়ী মূল্যের (৪৫ লাখ টাকার মধ্যে) ফ্লাটের ক্ষেত্রে জিএসটির হারের ১% এবং  অসাশ্রয়ী মূল্যের (৪৫ লাখ টাকার বেশী) জিএসটির হারের ৫%। আগে এর হার ছিল যথাক্রমে ৮% এবং ১২%। 

৯) প্রভিডেন্ট ফান্ড একাউন্ট স্থানান্তর-
২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল থেকে  আপনাকে পিএফ বা প্রভিডেন্ট ফান্ড একাউন্ট স্থানান্তরের জন্য পৃথক আবেদন দিতে হবে না। আপনি যখন একটি কোম্পানি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে জয়েন করবেন তখন আপনাকে আপনার কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) স্থানান্তর করতে হবে। ইউনিফায়েড অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) দিয়ে আপনি সহজেই প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করতে পারবেন।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেইল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Comments